এ কে খন্দকারকে আর মুক্তিযোদ্ধা বলা যাবে না - সফিউল্লাহ
সেক্টরস কমান্ডারস ফোরামের সভাপতি কে এম সফিউল্লাহ মুক্তিযুদ্ধের উপপ্রধান সেনাপতি এ কে খন্দকারকে এখন আর মুক্তিযোদ্ধা বলা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন সেক্টরস কমান্ডারস ফোরামের সভাপতি কে এম সফিউল্লাহ। তার মতে, এ কে খন্দকার ১৯৭১ : ভেতরে বাইরে বই লিখে মুক্তিযুদ্ধের বিকৃতি করেছেন। যিনি মুক্তিযুদ্ধের বিকৃত ইতিহাস রচনা করতে পারেন তিনি আর মুক্তিযোদ্ধা থাকতে পারেন না। জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ঢাকা বিভাগের সেক্টরস কমান্ডারস ফোরাম আয়োজিত আলোচনা সভায় কে এম সফিউল্লাহ এমন মন্তব্য করেন। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি প্রতিরোধ ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দ্রুত কার্যকরের দাবিতে ওই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এ কে খন্দকারকে উদ্দেশ করে কে এম সফিউল্লাহ বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান তার ভাষণে জয় পাকিস্তান বলেছেন, এটা কখনো শুনিনি। উনি কিভাবে জানলেন? আমার জীবদ্দশায় কখনো জয় পাকিস্তান শুনিনি। হয়তো জয় জিন্দাবাদও বলতে পারতেন। কিন্তু সেটা তো এ কে খন্দকার সাহেব লেখেননি। সফিউল্লাহ বলেন, এ কে খন্দকার বলেছেন স্বাধীনতা যুদ্ধের নাকি কোনো রাজনৈতিক প্রস্তুতি ছিল না। কিন্তু সিদ্দিক সালিক তার উইটনেস টু সারেন্ডার বইয়ের ৭৫ পৃষ্ঠায় বলেছেন, ২৫ মার্চের রাতে ফার্মগেটে পাকিস্তানি বাহিনী বাধার সম্মুখীন হন। তিনি বলেন, এ কে খন্দকার স্বাধীনতাযুদ্ধে যাননি। তিনি বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে কলকাতায় যান। আমরা যুদ্ধে গেছি মার্চ মাসে। আর উনি গেলেন মে মাসে। গিয়ে সোজা উঠলেন হেডকোয়ার্টারে। বাকি সময় তিনি সেখানেই ছিলেন। তিনি কোথায় যুদ্ধ করেছেন? আবার ইতিহাস বিকৃতি করে বই লিখেছেন। এখন তাকে আর মুক্তিযোদ্ধা বলা যাবে না। সূত্র : প্রথম আলো, ২৫ অক্টোবর ২০১৪ শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের নতুন চেয়ারম্যান, আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি, বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাবাবাহিনীর প্রধান এবং মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার জেনারেল সফিউল্লাহ স্পষ্টভাবেই বলেছেন, ৭ মার্চ শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি। মুক্তিযুদ্ধের উপ-অধিনায়ক এ কে খন্দকার বাধ্যতামূলক পদত্যাগ করলে ১৯ সেপ্টেম্বর সফিউল্লাহকে ফোরামের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। যে ইতিহাস তুলে ধরায় এ কে খন্দকারকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হলো সেই একই ইতিহাস আরো আগেই বিভিন্ন গণমাধ্যমে তুলে ধরেছেন বর্তমান চেয়ারম্যান জেনারেল সফিউল্লাহ। মুক্তিযুদ্ধের উপ-অধিনায়ক এ কে খন্দকার তার সদ্যপ্রকাশিত ১৯৭১ : ভেতরে বাইরে বইয়ে লিখেছেন, শেখ মুজিব ৭ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি। বরং ভাষণ শেষ করেছিলেন জয় পাকিস্তান বলে। আরো লিখেছেন, ২৫ মার্চ শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন এমন কোনো প্রমাণ তিনি পাননি। এই ইতিহাস তুলে ধরায় আওয়ামী লীগ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। দলীয় সহকর্মীরা তাকে পাকিস্তানের এজেন্ট ও রাজাকার উপাধিতে ভূষিত পর্যন্ত করেছেন। এদিকে, এ কে খন্দকার বাধ্যতামূলকভাবে পদত্যাগ করায় সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের নতুন চেয়ারম্যানের পদ পেয়েছেন আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি এবং মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার জেনারেল সফিউল্লাহ। শেখ মুজিব হত্যাকা-ের পর জেনারেল সফিউল্লাহও বাকশাল নেতা খন্দকার মোশতাক আহমদের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছিলেন। এমনকি ১৯৭৫-এর ২৫ আগস্ট পর্যন্ত তিনি সেনাপ্রধান হিসেবে চাকরি করেছেন। এরপর মোশতাক সরকার তাকে রাষ্ট্রদূতের চাকরি দিয়ে বিদেশ পাঠায়। জেনারেল সফিউল্লাহও তার পূর্বসূরি এ কে খন্দকারের মতোই বলেছেন, শেখ মুজিব ৭ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি। জেনারেল সফিউল্লাহর নিজের কণ্ঠে দেওয়া বক্তব্য শেখ মুজিব ৭ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি সাক্ষাৎকারটি ইউটিউবে রয়েছে। সাক্ষাৎকারে সফিউল্লাহ বলেছেন, আমরা সবাই বসে আছি ৭ মার্চের ভাষণ শোনার জন্য। দুই-তিন লাইন শোনার পর লাইনটা কেটে যায়। এর সাথেই (সেনাবাহিনীর বাঙালি সদস্যরা) বিদ্রোহ করে ফেলে। অস্ত্র নিয়ে বিদ্রোহের জন্য প্রায় বেরিয়ে পড়েছিল। আমি তাদের অনেক কষ্টে একখানে করে বলেছি, এখন পর্যন্ত জানি না ঢাকায় কি হয়েছে? যদি ঘোষণা (স্বাধীনতার ঘোষণা) হয়ে থাকে তাহলে একরকম ব্যবস্থা আর যদি না হয় তাহলে এখন পর্যন্ত আমাদের কিছু করা সম্ভব না, উচিত না। তারা (বিদ্রোহীরা) বলল, তাহলে ঠিক আছে ঘোষণাটা শুনি। পরের দিন ঘোষণাটা (৭ মার্চের ভাষণ) প্রচারিত হয়। প্রচারিত হওয়ার সাথে সাথেই আমরা বুঝতে পেরেছি সময় এখনো আসেনি। (অর্থাৎ শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি)। ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৪