ডেমোক্রেসি ফাইটার খালেদা জিয়া - রাকেশ রহমান
বর্তমান সরকার ক্ষমতাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতা চালিয়ে যাচ্ছে। বিরোধী মতের লোকদের ওপর নির্যাতন, গুম, খুন নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাড়িয়েছে। বহির্বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি এই সরকারের কারণে এতই নিচে নেমে এসেছে যে, প্রবাসীদের পদে পদে চলতে-ফিরতে অপমানিত হতে হচ্ছে। উপজেলা নির্বাচনগুলোতে যেভাবে নির্লজ্জের মতো বর্তমান সরকার সহিংসতা চালিয়ে জোর করে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে ধর্ষণ করে ক্ষতবিক্ষত করে দিল তা হলুদ মিডিয়া সম্পূর্ণ প্রকাশ না করলেও সত্য চাপা থাকেনি। তাই এই নমুনাগুলো প্রমাণস্বরূপ সবার চোখের সামনে চলে এসেছে। ১৯৮২-র ২৪ মার্চ সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এরশাদ বিচারপতি আবদুস সাত্তারকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। বেগম খালেদা জিয়া এর বিরোধিতা করেন। ১৯৮৩-র মার্চ মাসে তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৮৩-র ১ এপৃল দলের বর্ধিত সভায় তিনি প্রথম বক্তৃতা করেন। বিচারপতি সাত্তার অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪-র ১০ মে পার্টির চেয়ারপারসন নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার নেতৃত্বেই মূলত বিএনপির পূর্ণ বিকাশ হয়। ১৯৮২-র ৩ জানুয়ারি বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হিসেবে দলে যোগ দেওয়ার পর থেকে মোট চারবার তিনি গ্রেফতার হন। তিনি এখনো বাংলাদেশের গণতন্ত্র রক্ষার তাগিদে আপসহীন অটল রয়েছেন। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯৮৩-র ২৮ নভেম্বর, ১৯৮৪ সালের ৩ মে, ১৯৮৭-র ১১ নভেম্বর গ্রেফতার হন। সর্বশেষ তিনি ২০০৭-এর ৩ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার হন। ২০১২-তে বেগম খালেদা জিয়া একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিদেশ সফর করেন। আগস্টে তিনি রাজপরিবারের আমন্ত্রণে সৌদি আরবে যান এবং পবিত্র ওমরাহ পালন করেন। এই সফরে তিনি সৌদি রাজপুত্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী সালমান আবদুল আজিজ আল সৌদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাদের বৈঠকে দ্বিদেশীয় সম্পর্ক ও সৌদি আরবে বাংলাদেশের শ্রমবাজারের সংকট উত্তরণের বিষয়ে আলোচনা হয়। অক্টোবরে খালেদা জিয়া চায়না কমিউনিস্ট পার্টির আমন্ত্রণে চায়ন সফর করেন। সফরকালে তিনি চায়নর রাষ্ট্রীয় ও দলীয় ঊর্ধ্বতন নেতাদের সঙ্গে দেখা করেন। চায়নার উপরাষ্ট্রপতি ও শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বাংলাদেশে চায়নার বিনিয়োগ বৃদ্ধি, পদ্মা সেতু নির্মাণে বিনিয়োগের ব্যাপারে আলোচনা করেন। বৃহত্তর অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক বিষয়াবলিও তাদের আলোচনায় উঠে আসে। জিনপিং ছাড়াও খালেদা জিয়া কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিষয়ক প্রধানের সঙ্গে দেখা করেন। একই মাসে খালেদা জিয়া ইনডিয়া সরকারের আমন্ত্রণে ইনডিয়া সফরে যান। সফরের শুরুতে তিনি ইনডিয়ার কেন্দ্রীয় বিরোধীদলীয় প্রধান ও বিজেপি নেত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে বৈঠক করেন। সফরকালে তার প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিবশংকর মেনন ও পররাষ্ট্র সচিব রঞ্জন মাথাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। খালেদা জিয়ার ইনডিয়া সফরের আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে ছিল দ্বিবার্ষিক সম্পর্ক, সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা, তিস্তা পানি চুক্তি এবং বৃহত্তর অঞ্চলের ভূরাজনীতি ও নিরাপত্তা। বাংলাদেশের গণতন্ত্র রক্ষায় নিয়োজিত যোদ্ধা বেগম খালেদা জিয়া ২৪ মে ২০১১ তারিখে নিউ জার্সি স্টেট সিনেটে ডেমোক্রেসি ফাইটার হিসেবে সম্মানিত হন। এই প্রথম দক্ষিণ এশিয়ার সব নেতা-নেত্রীর মধ্য থেকে বাংলাদেশের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সিনেট কর্তৃক সম্মানিত এ পদবি দেওয়া হয়। বাংলাদেশের জন্য এটি একটি গর্বের বিষয়। বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের তিনবার নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী, তিনি বাংলাদেশের প্রথম ও মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দলের প্রধান। বর্তমানে বেগম খালেদা জিয়া ঠিক ১৯৮৬-র মতো ২০১৪-র ৫ জানুয়ারির পাতানো নির্বাচন বয়কট করে বিশ দলীয় ঐক্যজোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতন্ত্র রক্ষায় নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন করে যাচ্ছেন। এই আপসহীন নেত্রী অতীতে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে যেমন সফল হয়েছেন এইবারও তিনি সফল হবেন নিশ্চয়ই। কারণ দেশের সিংহভাগ মানুষ যার সাথে থাকে জয় তার অনিবার্য।