পরিবর্তনের আন্দোলনে আসুন - খালেদা জিয়া
বাংলাদেশে মীর জাফররা জিয়াউর রহমানকে হত্যা করেছে। এখনো মীর জাফররা বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু এ দেশে মীর জাফর যেমন আছে, সিরাজউদ্দৌলাও আছে। সে জন্য জনগণকে বলব, বেশি অত্যাচার-নির্যাতন হলে ঈসা খার ঢাল-তলোয়াড়ের কথা আপনাদের মনে আছে। আপনারা তা বুঝে নেবেন। আমি যখনই আন্দোলনের ডাক দেব, আপনারা অতীতের মতো সাড়া দেবেন। র‌্যাব গুম করে, মানুষ হত্যা করে। বিরোধী দলের সভা-সমাবেশে পুলিশ নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে। এই দুটি প্রতিষ্ঠান জঙ্গি দমনের নামে দেশের যুবকদের হত্যা করছে। সাধারণ মানুষের ওপর গুলিবর্ষণ করছে। র‌্যাব এখন খুনের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে যুবকদের ধরে নিয়ে যায়। ওইসব যুবক আর নিজেদের বাড়িতে ফিরে আসেনি। ৩১০ জন নেতা-কর্মীকে খুন ও ছাপ্পান্নজনকে গুম করে করা হয়েছে। এভাবে দেশ চলতে পারে না। দেশের মানুষ আর আওয়ামী লীগ সরকারকে চায় না। তারা ক্ষমতা থেকে নামলে এরশাদের মতো দুরবস্থায় পড়তে হবে। এ দেশের মানুষ তাদের আস্ত রাখবে না। আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি করতে দেওয়া হয় না। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৮ নভেম্বর সমাবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এভাবে বাধা দেওয়া হলে আমাদের কর্মসূচি দেওয়া ছাড়া অন্য কোনো পথ থাকবে না। দেশবাসি আমাকে তিনবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করেছেন। আমার আর ক্ষমতায় যাওয়ার ইচ্ছা নেই। আমি দেশের জনগণের সঙ্গে থাকতে চাই, দেশের জন্য কাজ করতে চাই। মিথ্যা মামলা দিয়ে সরকার দমননীতি চালাচ্ছে। ১/১১-র সময়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে পনেরোটি এবং আমার বিরুদ্ধে পাচটি মিথ্যা মামলা হয়েছিল। ক্ষমতায় এসে তিনি (শেখ হাসিনা) নিজের পনেরোটি মামলাসহ আওয়ামী লীগের সব মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। আর আমাদের মামলা ঠিক রাখা হয়েছে। বিচারকদের কাছে প্রশ্ন করতে চাই, শেখ হাসিনার নামে করা মামলা প্রত্যাহার হলে আমাদের মামলা কেন প্রত্যাহার হবে না? বিচারকদের বলব, আপনারা যদি সঠিকভাবে বিচার না করেন, আল্লাহ আছেন, একদিন আপনাদেরও বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা আজ জেগেছে সেই জনতা। আমি এক বছর আট দিন জেলে ছিলাম। দেশের মানুষকে ছেড়ে যাইনি। আরেক নেত্রী জেল ছেড়ে বিদেশে চলে গিয়েছিলেন। তার দুর্নীতি ও অপকর্মের চেক-এর কথা তার ভাই শেখ ফজলুল করীম সেলিম ও আওয়ামী লীগের প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক জলিলসাহেব স্বীকার করেছেন। এসব আমাদের কাছে আছে, একদিন তা প্রকাশ করা হবে। বর্তমান সরকার দেশকে নিয়ে খেলছে। এটা হতে দেওয়া হবে না। এই নব্য মীর জাফরকে বিদায় করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে। তারা যতই বলুক, এ দেশে নির্দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে। এই অবৈধ সরকার থাকতে পারবে না। দেশে যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ এই তিন বাহিনী এখন ভয়াবহ বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। তারা সব লুটপাট করছে, জমিজমা দখল করছে, মানুষ খুন করছে। এদের কোনো বিচার হয় না। তারা ধরাছোয়ার বাইরে। এই অবৈধ সরকারের হাত থেকে দেশ ও দেশের মানুষকে রক্ষা করতে হবে। সে জন্য আমরা অবশ্যই অতীতের মতো আন্দোলনের ডাক দেব, তখন সবাইকে সাড়া দিতে হবে। আমরা দুর্নীতি, দলীয়করণসহ অতীতের সব কিছু ঝেড়ে ফেলে দিয়ে দেশে পরিবর্তন আনবই।